
বাঙালির রান্নাঘর মানেই এক অফুরান গল্পের ভাণ্ডার। সেই গল্পের পাতায় যখন ঠাকুরবাড়ির নাম জড়িয়ে যায়, তখন সাধারণ রান্নাও হয়ে ওঠে এক শিল্প। আজ আমি আপনাদের কাছে পৌঁছে দেব সেই সাবেকিয়ানা আর আভিজাত্যের এক যুগলবন্দি। প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবীর হাত ধরে যে রান্নার আধুনিকতা শুরু হয়েছিল, তাকেই আজ আমি নিজের মতো করে সাজিয়ে নিই আমার প্রিয় 'দিদার হেঁশেল'-এ। পঁচিশে বৈশাখের এই শুভ ক্ষণে পাঠকদের জন্য রইল ঠাকুরবাড়ির এক অনন্য পদ— চাপরি ঘন্ট।
ঠাকুরবাড়ির রান্নার বৈশিষ্ট্য হলো মশলার সুসংগত ব্যবহার আর উপাদানের সাযুজ্য।
প্রজ্ঞা সুন্দরী দেবী লিখছেন:
'নামেতে যেমন ঘন্ট,কাজেও তাহাই।
ঘন্টতে রাঁধিতে অনেক মশলা চাই।
ফোড়নের মশলা তেজপাতা, হিং জিরা।
ভুলো নাকো দিতে তাতে আদা এক গিরা।
দুধ, চিনি আরো জিরা মরিচ বাটা।
সাঁতলাবে শেষে ঘিয়ে, কর ঘাঁটা ঘাঁটা।'
বিশেষ রেসিপি: 'চাপরি ঘন্ট
উপকরণ: শসা দুটো, ঝিঙে দুটো, ঘি ১ মাঝারি চামচ, তেজপাতা চার পাঁচটা,মেথি ১/২ চামচ, শুকনো লঙ্কা দুটো, মটর ডাল ৬০ গ্রাম, আদা দশ গ্রাম, সরষে বাটা ১ চা চামচ, নুন স্বাদ মতো
প্রণালী: শসা ও ঝিঙে কুচি কুচি করে কেটে ধুয়ে নিতে হবে।
ডাল দুঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে জল ছেঁকে তুলে বেটে নিতে হবে।
আদা বেটে রাখতে হবে।
তাওয়া তে ঘি গলিয়ে এই ডাল বাটা একবারে সবটা হাতে করে নিয়ে চাপড় দিয়ে ছড়িয়ে দিয়ে ভাজতে হবে। একপাশ লাল হয়ে গেলে আরেকপাশ উল্টে দিয়ে ভাজতে হবে।ভাজা হয়ে গেলে তাওয়া নামিয়ে নিয়ে, কড়া বসিয়ে তাতে ঘি দিয়ে তাতে তেজপাতা, মেথি, শুকনো লঙ্কা চিরে ফোড়ন দিতে হবে।
মেথি ও লঙ্কার রং গাঢ় হলে তাতে সরষে বাটা দিয়েই সঙ্গে সঙ্গে কাটা সবজি দিয়ে দিতে হবে।তারপর নুন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। তারপর ঢাকা তুলে এক কাপ জল দিয়ে আবার ঢেকে ছয় সাত মিনিট পর তরকারি সেদ্ধ হয়ে এলে চাপরি গুলো আধ গুঁড়ো করে ছেড়ে দিতে হবে। দু-একবার নাড়াচাড়া করে নামাবার ঠিক আগে আদা বাটা দিয়ে আবার নাড়াচাড়া করে নামিয়ে নিয়ে হবে। একটু জল জল থাকবে সেটা একটু সময় রেখে দিলে চাপরি গুলো টেনে নেবে।
উপসংহার:
রান্না শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, রান্না হলো মনের শান্তি আর মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের ভাষা। আমার কাছে 'দিদার হেঁশেল' শুধু একটা ব্যবসা নয়, এটি আমার বাবা-মায়ের আশীর্বাদ আর আমার লড়াইয়ের পরিচয়। আশা করি, এই রেসিপিটি আপনাদের হেঁশেলেও ঠাকুরবাড়ির ছোঁয়া নিয়ে আসবে।
দিদার হেঁশেল
July, 2026